আন্তর্জাতিক অনলাইন নিলাম প্লাটফর্ম গ্লোবাল ডেইরি ট্রেডের (জিডিটি) সর্বশেষ নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম আবার বেড়েছে। এ সময় গড় মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নিউজিল্যান্ডভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এনজেড হেরাল্ড।
বিশ্বব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বেশ কয়েক বছর ধরেই উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। আগের নিলামে দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছিল। গত বছরের নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১২টি নিলামের মধ্যে সাতটিতে দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর পেছনে ভূমিকা রাখছে দুধ উৎপাদনে খরচ বৃদ্ধি।
রাবোব্যাংকের গবেষণা শাখা রাবোরিসার্চের এক জরিপ অনুযায়ী, ২০১৯-২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বের শীর্ষ আটটি উৎপাদনকারী অঞ্চলে (ক্যালিফোর্নিয়া, আপার মিডওয়েস্ট, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, চীন, আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস) দুধ উৎপাদনের মোট খরচ গড়ে ১৪ শতাংশ বেড়েছে। এ খরচ বৃদ্ধির ৭০ শতাংশের বেশি ঘটেছে ২০২১ সালের পর।
রাবোরিসার্চের গবেষকরা জানিয়েছেন, খাদ্যশস্য ও সারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈরী আবহাওয়া, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যাঘাত এ মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। তারা আরো জানান, অভিবাসী শ্রমিকের সংকট ও সুদহার বৃদ্ধিও এ খরচ বাড়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
ফন্টেরার (নিউজিল্যান্ডের খামারিদের মালিকানাধীন একটি বহুজাতিক ডেইরি প্রতিষ্ঠান) ফার্মগেট দুধের মূল্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ। জিডিটির সর্বশেষ নিলামে পণ্যটির দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য পৌঁছেছে ৪ হাজার ১৭১ ডলারে।
ফন্টেরার দ্বিতীয় বৃহত্তম রেফারেন্স পণ্য ননিছাড়া গুঁড়া দুধ। জিডিটি নিলামে এটির দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ২ হাজার ৭৯৫ ডলারে। আগের নিলামে ননিছাড়া গুঁড়া দুধের দাম ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছিল।
সর্বশেষ নিলামে দুগ্ধজাত যেসব পণ্যের দাম কমেছে তার মধ্যে অন্যতম চেডার পনির। পণ্যটির দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৪ হাজার ৯২৩ ডলারে নেমে এসেছে।
এবারের নিলামে বাটারের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি মূল্য স্থির হয়েছে ৭ হাজার ৬৭৯ ডলারে। অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাটের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৬ হাজার ৮৩৮ ডলারে পৌঁছেছে।
জিডিটির সর্বশেষ নিলামে মোজারেলা পনিরের দাম ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ৪ হাজার ৭৬৩ ডলারে। আগের নিলামে পণ্যটির দাম ৪ শতাংশ কমে গিয়েছিল। এবারের নিলামে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ল্যাকটোজের দাম। পণ্যটির দাম ২২ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি মূল্য স্থির হয়েছে ১ হাজার ৩৭৬ ডলারে। তবে এবারের নিলামে বাটার মিল্ক পাউডার বেচাকেনা হয়নি।
জিডিটির সর্বশেষ নিলামে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বাড়লেও বেচাকেনা কমেছে। এ নিলামে মোট ১৬ হাজার ৭১৮ টন পণ্য বেচাকেনা হয়েছে, আগের নিলামে যা ছিল ১৭ হাজার ৬৪৩ টন।
এদিকে ফন্টেরা ২০ মার্চ তার ২০২৪-২৫ মৌসুমের জন্য ফার্মগেট মূল্য পূর্বাভাস সংশোধন করে কেজিএমএসে (কিলোগ্রাম অব মিল্ক সলিডস) ৯ ডলার ৭০ থেকে ১০ ডলার ৩০ সেন্টে নির্ধারণ করেছে।
এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর তাদের নির্ধারিত পূর্বাভাস ছিল কেজিএমএসে ৯ ডলার ৫০ থেকে ১০ ডলার ৫০ সেন্ট।